অ্যামাজনের মাটি মহামূল্যবান: এক চা চামচ মাটিতে মেলে হাজার প্রাণ!

প্রকাশিত: ৩:৩১ অপরাহ্ণ, জুন ২৯, ২০২০

বিশ্বের বৃহত্তম রেইনফরেস্ট বা ঘনবর্ষণ বনাঞ্চল অ্যামাজনের মাত্র এক চা চামচ মাটিতেই সর্বাধিক এক হাজার ৮০০ রকমের আনুবীক্ষণিক প্রাণের অস্তিত্ব আছে। এর মধ্যে কেবল ছত্রাকই আছে চারশ রকমের।

বিজ্ঞানীরা বলছেন- অ্যামাজনের মাটির নিচে লুকিয়ে থাকা এসব আনুবীক্ষণিক প্রাণের মধ্য আছে আশ্চর্যজনক সব উপাদান, যা তাঁরা মাত্রই আবিষ্কার করতে শুরু করেছেন। সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।

বিশ্বে আনুমানিক প্রায় ৩৮ লাখ ধরণের ছত্রাক আছে। এসব ছত্রাকের বেশিরভাগেরই এখনো শ্রেণিবিন্যাস করা সম্ভব হয় নি। ব্রাজিলের অ্যামাজন জঙ্গল ছত্রাকের প্রাচুর্য আছে।

লন্ডনের কিউ বোটানিক্যাল গার্ডেনের বিজ্ঞান বিষয়ক পরিচালক প্রফেসর অ্যালেক্সান্দ্রে অ্যান্তোনেলি বলেন- অ্যামাজনের বনাঞ্চলকে রক্ষা করতে হলে ছত্রাকের ভূমিকাটা বোঝা খুব দরকার।

অ্যালেক্সান্দ্রে অ্যান্তোনেলি আরও বলেন- ‘আপনি অ্যামাজনের জঙ্গলের এক চা চামচ মাটি তুলে নেন, দেখবেন সেখানে কত শত শত বা হাজার প্রজাতির প্রাণের অস্তিত্ব আছে। জীববৈচিত্র্য বিষয়ক বিজ্ঞানের এক নতুন সীমানা কিন্তু এ ছত্রাক।’

জীববৈচিত্র্যের তালিকায় ছত্রাক সাধারণত উপেক্ষিত, কারণ এগুলো সাধারণত মাটির নিচে লুকিয়ে থাকে।

আন্তর্জাতিক সংরক্ষণ সংস্থা আইইউসিএন বিপন্ন প্রাণি এবং গাছপালার যে তালিকা তৈরি করেছে, সেখানে মাত্র একশ ধরণের ছত্রাকের মূল্যায়ণ করা হয়েছে।

অ্যামাজনের মাটিতে কতো রকমের ছত্রাক আছে, সেটা জানতে গবেষকরা সেখানকার মাটি সংগ্রহ করে পরীক্ষা চালান। জেনেটিক বিশ্লেষণ করে গবেষকরা দেখতে পেয়েছেন, সেখানে শতো শতো রকমের ছত্রাক আছে। এর কিছু আছে যেগুলো গাছপালার শেকড়ে থাকে। কিছু ছত্রাক খুবই বিরল। এগুলোর বেশিরভাগেরই এখনও কোনো নাম রাখা হয় নি। কোনো পরীক্ষা করা হয়নি।

জার্মানির ডুইসবার্গ-এসেন ইউনিভার্সিটির গবেষক ড. ক্যামিলা রিটার বলেন- বিশ্বের সবচেয়ে বৈচিত্র্যময় জঙ্গলকে রক্ষা করতে হলে, সেখানকার মাটির বৈচিত্র্য বোঝাও খুব গুরুত্বপূর্ণ।

মাটির পুষ্টি ঠিক রাখা এবং কার্বন ডাই অক্সাইডের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে ছত্রাক খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি খাদ্য এবং ঔষধেরও এক বড় উপাদান।

তবে কিছু ছত্রাক খুবই বিপদজনক। বিশ্বজুড়ে অনেক গাছপালা ও ফসল ধ্বংসের কারণ। অ্যাম্ফিবিয়ান জাতীয় প্রাণীর বিলুপ্তির জন্যও ছত্রাককে দায়ী করা হয়।

অ্যামাজনের মাটি নিয়ে এ গবেষণা চালিয়েছেন যুক্তরাজ্য, ব্রাজিল, জার্মানি, সুইডেন ও এস্তোনিয়ার একদল গবেষক। তাঁদের গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে ইকোলজি অ্যান্ড এভল্যুশন জার্নালে।