অন্য দেশ থেকে অস্ট্রেলিয়ান বা যেকোনো বিদেশি কোম্পানির বিনিয়োগকে স্বাগত জানাবে বাংলাদেশ: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশিত: ১২:৫৯ অপরাহ্ণ, জুন ১৩, ২০২০

বাংলাদেশে বিনিয়োগের আকর্ষণীয় এবং অনুকূল পরিবেশ রয়েছে উল্লেখ করে অস্ট্রেলিয়ার কোম্পানিগুলোকে এ দেশে বিনিয়োগের আহবান জানিয়েছে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ. কে. আব্দুল মোমেন। অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিনেটর মারিসে আন পেইনির সঙ্গে বৃহস্পতিবার ফোনালাপকালে মন্ত্রী মোমেন বলেন, এ অঞ্চলের যেকোন দেশের তুলনায় বাংলাদেশে বিনিয়োগ লাভজনক। এখানে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ বিদ্যমান। অন্য দেশ থেকে অস্ট্রেলিয়ান বা যেকোনো বিদেশি কোম্পানি তাদের বিনিয়োগ সরিয়ে বা স্থানান্তর করতে চাইলেও বাংলাদেশ স্বাগত জানাবে।

তিনি আরও বলেন, বৈশ্বিক সমস্যা করোনা মহামারির কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ সরকার দেশে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি করতে চায়। বাংলাদেশ ১০০টি অথনৈতিক অঞ্চল সৃষ্টি করছে যেখানে অস্ট্রেলিয়ার বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগ করলে তারা যেমন উপকৃত হবে, তেমনি বাংলাদেশিদেরও কর্মসংস্থান হবে। এছাড়া বাংলাদেশে ২৮টি হাইটেক পার্ক এবং বিপুল সংখ্যক তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষ জনগোষ্ঠী রয়েছে। অস্ট্রেলিয়া চাইলে এখানে বিনিয়োগ বাড়িয়ে বাংলাদশি এই জনসম্পদকে কাজে লাগাতে পারে।

রোহিঙ্গা এবং অন্যান্য প্রসঙ্গ

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে অস্ট্রেলিয়ার সহায়তা কামনা করেন।
বলেন, রোহিঙ্গারা নিজ ভূমি মিয়ানমারে ফিরে গেলেই কেবল তাদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত হতে পারে। অনুকুল পরিবেশ সৃষ্টি করে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে ফিরিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করে ড. মোমেন বলেন, রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের নাগরিক নয়। সম্পূর্ণ মানবিক কারণে বাংলাদেশ সাময়িকভাবে তাদের আশ্রয় দিয়েছে। মিয়ানমারে নির্যাতিত হয়ে রোহিঙ্গারা গভীর সমুদ্রে আশ্রয় নিলেও কোনো দেশ তাদের উদ্ধারে এগিয়ে আসে না। অন্যান্য দেশেরও উচিত তাদের দায়িত্ব নেয়া। পররাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন, মানবিক কারণে সমুদ্র থেকে উদ্ধার করা কিছু সংখ্যক রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে রাখা হয়েছে। সাইক্লোন আম্ফানে সারাদেশে ব্যাপক ক্ষতি হলেও ভাসানচরে এর কোনো প্রভাব পড়েনি।

তিনি আরও বলেন, সেখানকার রোহিঙ্গারা কিছু অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নিজেদের সম্পৃক্ত করতে পারবে। ৪৮টি দেশের সংগঠন ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরামের সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশ দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। পৃথিবীর তাপমাত্রা যাতে ১.৫ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডের বেশী বৃদ্ধি না পায় সে বিষয়ে এ ফোরামের উদ্যোগের বিষয়ে তিনি অস্ট্রেলিয়ার সহায়তা কামনা করেন।

ড. মোমেন উল্লেখ করেন, জাতিসংঘে কমনওয়েলথের কোনো অফিস বা প্রতিনিধি না থাকায় বৈশ্বিক আলোচনায় এ সংস্থা সদস্য রাষ্ট্রেগুলোর স্বার্থ রক্ষায় যথাযথ ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হচ্ছে। জাতিসংঘের আলোচনায় প্রতিনিধিত্ব থাকলে সংস্থা হিসেবে কমনওয়েলথের সক্ষমতা ও কার্যকারিতা বৃদ্ধি পাবে। এ সময় ড. মোমেন করোনা মহামারি অবস্থায় অস্ট্রেলিয়ায় অধ্যয়নরত ছাত্রসহ সেদেশে বসবাসরত বাংলাদেশিদের সহযোগিতার জন্য অস্ট্রেলিয়ার সরকারকে ধন্যবাদ জানান।