অনলাইন বিপিও কনফারেন্সের আয়োজন করলো ‘বাক্কো’

প্রকাশিত: ৭:৫৫ অপরাহ্ণ, জুন ১৮, ২০২০

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কল সেন্টার অ্যান্ড আউটসোর্সিং (বাক্কো) প্রথমবারে মতো অনলাইন প্লাটফর্মে ধারাবাহিক কনফারেন্সের আয়োজন করেছে। বর্তমান মহামারী নভেল করোনাভাইরাসের প্রভাবে বিপিও শিল্প যে ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে এবং শিল্পের উন্নয়নে করণীয় নিরূপণে এ অনলাইন সেমিনারের আয়োজন করা হয়।

বাক্কোর এ ধারাবাহিক আয়োজনে গত ১৪ জুন, প্রথম কনফারেন্সটি ছিল ‘Youth engagement : Skill for 21st Century’ বিষয়ক, যার প্রতিপাদ্য-ছিল তরুণদের বিপিও খাতে সম্ভাবনা, নন ভয়েস স্কিলস, সফট স্কিলস এবং ওয়ার্ক ফ্রম হোম ইত্যাদি। দিনে দিনে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোয় যত প্রযুক্তির প্রসার হচ্ছে, ততই প্রযুক্তি ও প্রকৌশলগত মেধাশক্তির চাহিদাও বাড়ছে। তাছাড়া বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রযুক্তির ব্যবহার অনস্বীকার্য।

এসব বিষয়ে আশার বাণী শুনিয়েছেন কনফারেন্সটির প্রধান অতিথি মাননীয় শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী। তিনি বলেন, তরুণদের কমিউনিকেশন স্কিল, প্রেজেন্টেশন স্কিল এবং মুক্তচিন্তা করার ওপর আরও জোর দিতে হবে। সেই সঙ্গে, পরিবার থেকে গতানুগতিক চিন্তাধারার বাইরে গিয়ে পুঁথিগত বিদ্যার পাশাপাশি সন্তানদের প্রযুক্তি বিষয়ক দক্ষতা অর্জনেও উৎসাহ দিতে হবে, যাতে আন্তর্জাতিক চাহিদা অনুযায়ী আইটি স্কিলসহ অন্যান্য বিষয়ে নিজেদের প্রস্তুত করতে পারে। কেননা এ শিল্পে তরুণদের কাজের অনেক সুযোগ রয়েছে।

এ আয়োজনে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রথম আলোর হেড অব ইয়ুথ প্রোগ্রাম মুনির হাসান, রবি ১০ মিনিট স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা আয়মান সাদিক এবং উইমেন ইন ডিজিটালের প্রতিষ্ঠাতা আছিয়া খালেদা নীলা, যারা বর্তমান প্রজন্মের প্রতিভাবান উদ্যোক্তাদের অনুপ্রাণিত করতে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন। পুরো আয়োজনটিকে সঞ্চালনা করেছেন বাক্কোর পরিচালক রাশেদ নোমান এবং মূল বক্তা হিসেবে বাক্কোর সাধারণ সম্পাদক তৌহিদ হোসেন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের বিপিও শিল্পে কাজ করতে তরুণদের যেসব তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক দক্ষতা প্রয়োজন, তা নিয়ে তথ্যপূর্ণ একটি উপস্থাপনা তুলে ধরেন।

দ্বিতীয় পর্বের আয়োজনটিতে ছিল ‘BPO ECO System: Access to Finance’ বিষয়ক কনফারেন্স, যাতে আমাদের বর্তমান আর্থিক সংকট থেকে বেরিয়ে আশার উপায় এবং ব্যাংকিং খাতে আউটসোর্সিং করার সুযোগ নিয়ে আলোচনা করা হয়। উক্ত সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন মোস্তাফা জব্বার, মন্ত্রী; ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ এবং আয়োজনে আরও উপস্থিত ছিলেন দেশের বিভিন্ন ব্যাংক প্রধান এবং
আইটি/আইটিইএস অ্যাসোসিয়েশন প্রধানরা।

মন্ত্রী বলেন, ‘২০২১ সালের মধ্যে দেশের সব গ্রাম এবং ইউনিয়নে ইন্টারনেট সেবা পৌঁছে দেয়া হবে। তিনি সব দেশীয় ব্যাংকগুলোকে আহ্বান জানান, যেন তারা দেশীয় আউটসোর্সিং প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে বিপিও এবং আইটি শিল্পের বিকাশে সহযোগিতা করেন।

সেই সঙ্গে সহজ শর্তে ঋণ প্রদান এবং অন্যান্য ব্যাংকিং সুযোগ-সুবিধা প্রদানের বিষয়টিকেও অগ্রাধিকার দেন। কনফারেন্সে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেডের এমডি এবং সিইও সেলিম আর এফ হোসেন, উত্তরা ব্যাংকের এমডি এবং সিইও মোহাম্মদ রবিউল হোসেন, প্রাইম ব্যাংকের এমডি এবং সিইও রাহেল আহমেদ এবং আইপিডিসি ফাইন্যান্স লিমিটেডের এমডি এবং সিইও মমিনুল ইসলাম।

কনফারেন্সে উপস্থিত ব্যাংকগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক জানান, আমাদের আইটি/আইটিইএস তথা বিপিও শিল্প সম্পর্কে তাদের আরও ধারণা প্রয়োজন। তারা তাদের বিভিন্ন ব্যাংকিং সেবা আউটসোর্স করতেও আগ্রহ প্রকাশ করেন, যেন ভবিষ্যতে গতানুগতিক ব্যাংকিং ধারার বাইরে গিয়েও বিপিও শিল্পে তারা আরও বিনিয়োগ ও সহযোগিতা করতে পারেন।

কনফারেন্সটিতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব এএইচএম শফিকুজ্জামান এবং অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেসিস, আইএসপিএবি, ই-ক্যাব এবং বিসিএস-এর সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা। পুরো আয়োজনটি সঞ্চালনা করেছেন লিভারেজিং আইসিটির পলিসি অ্যাডভাইজর সামি আহমেদ। সবশেষে, বাক্কো সভাপতি ওয়াহিদ শরীফ আয়োজনটিতে এ ধরনের ফলপ্রসূ আলোচনার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে কনফারেন্সটির সমাপ্তি ঘোষণা করেন।