অতিরিক্ত বাস ভাড়ায় ভোগান্তিতে মানুষ

প্রকাশিত: ১:৫০ পূর্বাহ্ণ, জুন ৩, ২০২০
প্রতীকী ছবি

অতিরিক্ত বাস ভাড়ায় ভোগান্তির শিকার হচ্ছে সাধারণ মানুষ

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে সরকার কর্তৃক জারিকৃত টানা ৬৬ দিনের সাধারণ ছুটি শেষে রাজধানীসহ সারাদেশে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত পরিসরে চলাচল শুরু হয়েছে গণপরিবহন। করোনার বিস্তার ঠেকাতে সীমিত যাত্রী বহনের নির্দেশনা দিয়ে ৬০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে বাস ভাড়া। তবে সরকার নির্ধারিত ভাড়ার পরিবর্তে দিগুণ-তিনগুণ ভাড়া আদায় করছে বাস কোম্পানিগুলো। এমন অবস্থায় নিরুপায় যাত্রাপথে নির্বিচারে পকেট কাটা পড়ছে সাধারণ যাত্রীদের।

করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে গত রোববার থেকে একটি সিট খালি রাখা, মাস্ক পরিধান করা, অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন না করাসহ বেশকিছু নির্দশনা ও শর্ত দিয়ে ট্রেন-লঞ্চ-বাস চলাচলের অনুমতি দেয় সরকার। ট্রেনের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি মানা হলেও বাস ও লঞ্চে অনেকটাই উপেক্ষিত। ট্রেনে ও লঞ্চে কোনোরকম ভাড়া না বাড়লেও সীমিত আকারে চলার ক্ষেত্রে বাস ভাড়া ৬০ শতাংশ বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার। তবে সাধারণ যাত্রীদের অভিযোগ রয়েছে, জারি করা প্রজ্ঞাপণের কোনো শর্তই মানছেন না গণপরিবহন সংশ্লিষ্টরা।

সিলেট থেকে ঢাকায় আসা বেশকিছু দূরপাল্লার বাসের বিরুদ্ধে যাত্রীদের কাছ থেকে দ্বিগুণ ভাড়া আদায় করার অভিযোগ পাওয়া যায়।

সরেজমিনে দেখা যায়, এক দূরপাল্লার বাস দিয়ে বিয়ানীবাজার থেকে ঢাকার সায়েদাবাদ এসেছেন এক যাত্রী। তিনি বলেন, আগে তিনশো থেকে সাড়ে তিনশো টাকা ভাড়া রাখতো আজকে (মঙ্গলবার) ভাড়া রাখছে সাতশো করে। কি করবো? সরকার নাকি ভাড়া বাড়াইছে, সবাই দিতেছে তাই বাধ্য হয়ে আমিও দিলাম।

এদিকে ঢাকার সায়েদাবাদ, গোলাপবাগ, কমলাপুর, ফকিরাপুলসহ বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ড ঘুরে দেখা গেছে, ঢাকা থেকে বাড়ি যেতেও কাউন্টারগুলোতে টিকিট সংগ্রহ করতে যাত্রীরা শারীরিক দূরত্ব মানছে না। গায়ে গা ঘেঁষে দাঁড়িয়ে টিকিট কিনছেন। অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার জন্য পরিবহন সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বাকবিতন্ডায় জড়াচ্ছেন অনেকে।

এ বিষয়ে ঢাকা সড়ক পরিবহণ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার এনায়েত উল্লাহ বলেন, সরকার নির্ধারিত ৬০ শতাংশ ভাড়া বৃদ্ধি আমাদের লাভ হবে না। কারণ আমাদেরকে অর্ধেক যাত্রী নিতে হচ্ছে। আর দুই মাস বসে থেকে আমাদের গাড়ির অনেক যন্ত্রাংশ বিকল হয়ে গেছে। কোনো আয় হয়নি। তারপরও আমরা সরকারের বেঁধে দেওয়া নিয়মের বাইরে যাবো না। তিনি বলেন, একজন যাত্রীর পাশে একটি সিট খালি রাখতে হচ্ছে। কিন্তু সেই যাত্রী ষাট শতাংশ ভাড়া দিলেও খালি সিটের পয়সা কিন্তু উঠে আসছে না। অন্যদিকে গাড়ির চালক ও স্টাফদেরকে ঝুঁকি নিয়েই গাড়ি চালাতে হচ্ছে। এসব কারণে আমরা সরকারে কাছে যৌক্তিক ভাড়া বৃদ্ধির দাবি করছিলাম। কিন্তু সেটা হলো না। তবে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পেলে আমরা ব্যবস্থা নেবো।

অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিষয়ে যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, পরিবহণের অনিয়ম বন্ধ করলে বাস ভাড়া বাড়ানোর কোনো প্রয়োজন হবে না বলে আমার বিশ্বাস। এই বিষয়ে আমি সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাছে অনুরোধ করবো ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়টি যেনো বিবেচনা করা হয়।

সূত্র কৃতজ্ঞতা- গণমাধ্যম