অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিনের চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে দুই হাজার সুস্থ মানুষ

প্রকাশিত: ৯:৫০ পূর্বাহ্ণ, জুন ৩০, ২০২০

চূড়ান্ত দফার পরীক্ষায় দুই হাজার সুস্থ মানুষের ওপর প্রয়োগ করা হচ্ছে যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভাবিত ভ্যাকসিন।

গত শনিবার থেকে তাদের শরীরে এ ভ্যাকসিন দেওয়া শুরু হয়েছে। জার্মানি ও দক্ষিণ আফ্রিকার সোয়োটের একটি ক্লিনিকে এ পরীক্ষা কার্যক্রম চলছে। সূত্র : রয়টার্স।

গবেষকরা বলছেন- সর্বশেষ এই পরীক্ষা থেকে জানা যাবে এই যে টিকা মানবদেহে কতটা কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারে। খবরে বলা হয়- করোনার কার্যকরী প্রতিষেধক তৈরিতে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপে দুটি প্রাণীদেহে পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন শেষে এবার তৃতীয় দফার পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো শুরু করেছেন। আশার প্রদীপ জ্বালানো এই পরীক্ষায় স্বেচ্ছায় অংশ নিতে দুই হাজার সুস্থ মানুষকে বাছাই করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এরই মধ্যে বেশ কয়েকজনের শরীরে প্রথম ডোজ প্রয়োগের পর তাদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। এদিকে তৃতীয় দফার এই গবেষণা সফল হবে- এমন আশায় দিন গুনছে জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি ও নেদারল্যান্ডসসহ ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলো।

ব্রিটিশ ওষুধ কোম্পানি অ্যাস্ট্রাজেনেকা ইউরোপের ইনক্লুসিভ ভ্যাকসিন অ্যালায়ান্সের সঙ্গে ৪০০ মিলিয়ন ডোজের চুক্তির পর থেকে প্রত্যাশার চাপ বেড়েছে এই দেশগুলোর স্থানীয় ও প্রবাসীদের মধ্যে। রোগীর শরীরেই করোনা প্রতিরোধী সেল: ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল বিজ্ঞানীর দাবি- তারা এমন এক ধরণের শক্তিশালী কোষের সন্ধান পেয়েছেন- যেগুলো করোনাভাইরাসকে প্রতিহত করতে সক্ষম। বিজ্ঞানীরা এই বিশেষ কোষের নাম দিয়েছেন ‘টি সেল’। তাদের দাবি- ১০ জনের মধ্যে ৮ জন করোনা আক্রান্তের শরীরেই এই ভাইরাস নিষ্ক্রিয়কারী শক্তিশালী ‘টি সেল’-এর উপস্থিতির প্রমাণ মিলেছে। টি-সেল হলো এক ধরণের শ্বেত রক্তকণিকা- যা শরীরের রোগ প্রতিরোধক ক্ষমতা ও তার (ইমিউনো সিস্টেম) কার্যক্রমের অন্যতম অংশ। এই টি-সেল শরীরে প্রবেশ করা ভাইরাস, ব্যাক্টেরিয়া বা ছত্রাকের সংক্রমণকে প্রতিহত করে শরীরের সুস্থতা বজায় রাখে।

বিজ্ঞানীরা কভিড রোগীদের চিকিৎসা নেওয়ার শুরুর দিন, সপ্তম দিন ও ১৪তম দিনে তাদের শারীরিক অবস্থার ওপর পর্যবেক্ষণ চালিয়ে দেখতে পেয়েছেন- তাদের শরীরে টি-সেল সংক্রমণের আগের দিন থেকেই বিদ্যমান ছিলো। তবে সংক্রমণের সময় বৃদ্ধি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে টি-সেলের সক্রিয়তাও বাড়তে থাকে। মার্কিন বিজ্ঞানীরা করোনা আক্রান্তের শরীর থেকে এই শ্বেত কণিকা (টি-সেল) সংগ্রহ করে সেগুলোকে পরীক্ষাগারে কৃত্তিম উপায়ে বিভাজিত ও বৃদ্ধি ঘটানোর কথা ভাবছেন। এরপর ওই কোষগুলোর জিনগত পরিবর্তন ঘটিয়ে সেগুলোকে করোনাভাইরাসকে ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে ব্যবহারের কথা ভাবছেন তারা। অর্থাৎ করোনাভাইরাসকে প্রতিহত করতে বিজ্ঞানীদের এখন ভরসা এই টি-সেল।